Saturday, 31 January 2015

দির্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখতে প্রয়োজন ৮ টি নিয়ম

দীর্ঘায়ু অনেকেই হন। কিন্তু শুধু দীর্ঘায়ু হলে কি চলবে? বিছানায় পড়ে থেকে ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পাওয়ার যে জীবন, তেমন দীর্ঘায়ু নিশ্চয়ই আপনার কাম্য নয়? দীর্ঘায়ু যদি হতেই হয়, তবে থাকতে হবে সুস্থ সবল, নিজের তারুণ্য রাখতে হবে অটুট। ভাবছেন কী করে সম্ভব? না, ম্যাজিক প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল নিজের জীবনে ছোট্ট কিছু পরিবর্তন। দীর্ঘায়ু হতে মেনে চলুন এই ৮ টি নিয়ম, সাথে তারুণ্যও ধরে রাখতে পারবেন বহুকাল।
হাঁটুনআয়ু বাড়াতে এবং যৌবন ধরে রাখতে হাঁটার বিকল্প নেই। হাঁটলে শরীর সুস্থ্ ও কর্মক্ষম থাকে। নিয়মিত হাঁটলে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে থাকে এবং মস্তিষ্ক সচল থাকে।
ত্বকের যত্ন নিন
শুধু কি সুস্থ থাকলেই হবে? ত্বকেও ধরে রাখা চাই যৌবন। আর এর জন্য নিয়মিত ত্বকের যত্ন দিন। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখে অ্যান্টি এজিং ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মুখ ভালো করে ম্যাসাজ করে ঘুমান। এছাড়াও মাঝে মাঝে পুরো শরীর স্পা করিয়ে নিন অথবা ম্যাসাজ করিয়ে নিন।
প্রচুর ফল খান
ফলে আছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই দীর্ঘায়ু হতে চাইলে নিয়মিত ফল খান।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন
অতিরিক্ত ওজন থাকলে ঝরিয়ে ফেলুন। কারন অতিরিক্ত ওজন খুব দ্রুত মানুষকে বুড়িয়ে দেয় এবং আয়ু কমিয়ে দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেললে যৌবন ধরে রাখা যায় এবং দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়।
রঙিন শাকসবজি খান
আয়ু বাড়াতে চাইলে প্রচুর পরিমানে রঙিন শাকসবজি খান। রঙিন শাকসবজিতে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন যা শরীরের চাহিদা মেটায় এবং শরীরকে সুস্থ্ রাখতে সহায়তা করে।
পেট ভরে সকালের নাস্তা খান
প্রতিদিন সকাল বেলা পেট ভরে সকালের নাস্তা খান। সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে ডিম ও দুধ খান। গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে যারা নিয়মিত সকালের নাস্তায় ডিম খায় তাদের হৃৎপিন্ড ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
চা খান
সুস্থ্য জীবন ও দীর্ঘায়ু লাভ করতে প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ চা খান। তবে সেটা দুধ চা না খেয়ে সবুজ চা কিংবা চিনি ছাড়া রঙ চা খান। সবুজ চা ত্বকের যৌবন ধরে রাখে এবং শরীরের ওজন কমিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান
যৌবন ধরে রাখতে এবং দীর্ঘ জীবন পেতে চাইলে মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চকলেট, ক্যান্ডি, মিষ্টি, ডেসার্ট ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমানে কার্বহাইড্রেট ও ফ্যাট থাকে যা হৃদপিন্ডের ক্ষতি করে এবং শরীরে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
সূর্যের আলোতে যান
সুস্থ দীর্ঘ জীবন পেতে এবং যৌবন ধরে রাখতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গায়ে একটু সূর্যের আলো লাগিয়ে নিন। সূর্যের আলোতে আছে ভিটামিন ডি যা হাড়কে মজবুত করে। এছাড়াও সূর্যের আলো মানসিক চাপ ও বিষন্নতা কমিয়ে দেয়।

Friday, 30 January 2015

ঔষুধ ছাড়া উচ্চ রক্ত চাপ রোগের কয়েকটি প্রতিরোধক উপায়

আমাদের সাধারণ জীবনের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে , উচ্চ রক্ত চাপ রোগ হচ্ছে এদের মধ্যে অন্যতম । এ রোগ অনেকের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে । আজকের অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের জন্য এ রোগের কয়েকটি প্রতিরোধক উপায় জানিয়ে দেবো ।
    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা প্রতিদিন ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি, কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করলে , রক্ত চাপ কিছুটা কমতে পারবে ।
    ১. উত্তেজনাময় মন স্থির করা
    যেসব চিন্তা, দুঃখের মতো আবেগপূর্ণ অথবা হঠাত্ উত্তেজনাময় উদ্দীপিত সেইসব চিন্তা মানুষের ক্লান্ত শরীরের স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করে এবং শরীরের রক্তনালীর সঙ্কোচন ত্বরান্বিত করবে, ফলে মানুষ সহজভাবেই উচ্চ রক্ত চাপ বেড়ে যাবে । তাছাড়া, যদি উচ্চ স্বরে কথা বলেন, রক্তের চাপ স্বাভাবিক কথা বলা সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হবে । এ জন্য আপনারা সবসময় স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন এবং মন শান্ত রাখার চেষ্টা করুন ।
    ২. বেশি রসুন খাওয়া
    বিদেশের এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা পরপর ১২ সপ্তাহ প্রতিদিন সামান্য রসুন খেলে , রক্তের চাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
    ৩. দূধ খাওয়া
    গবেষণা থেকে জানা গেছে, শরীরের মধ্যে কম ক্যালসিয়াম থাকলে সহজভাবে উচ্চ রক্ত চাপ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে । দূধের মধ্যে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে, প্রতিদিন দুই কাপ দূধ খান, মানুষের শরীরে তা ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম দেবে । মনে রাখুন, দূধ খাওয়ার আগে , একটু খাবার খান । যা শরীরের ক্যালসিয়া গ্রহণ ত্বরান্বিত করবে ।
 ৪. কলা খাওয়া
    কলার মধ্যে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে । পটাশিয়াম মানুষের স্বাভাবিক রক্ত চাপের জন্য সহায়ক । প্রতিদিন একটি কলা খেলে, রক্ত চাপের স্বাভাবিকায়ন ত্বরান্বিত হবে ।
    ৫. শরীরের ওজন কমাতে যুক্তিযুক্ত ব্যয়াম করা
    মোটা হচ্ছে বহু ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ । উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ হলেন বেশি মোটা লোক । এ জন্য নিজেদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা রক্ত চাপের স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক । তা ছাড়া, প্রত্যেক সপ্তাহে তিন বার ব্যায়ম করে, প্রত্যেকবার ২০ বা ৩০ মিনিট চর্চা করে রক্ত চাপ কমানো ত্বরান্বিত করা যায় । যেমন হাঁটা, জিম্যাস্টিক ইত্যাদি ।
    ৬. যথেষ্ট ভিটামিন সি খাওয়া
    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেসব মানুষ বেশি ভিটামিন সি খায় , সেসব লোকের উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত হওয়ার হার কম । এ জন্য সাধারণ জীবনে আপনারা বেশি ভিটামিন সি যুক্ত ফল ও সবজি খাওয়া ভালো । যেমন কমলা, বাতাবী লেবু ও টম্যাটো ।
    তা ছাড়া, সুখী ও শান্ত মন ভালো শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।


Thursday, 29 January 2015

চিনে নিন আপনার লিভারকে সুস্থ রাখবে এমন খাবার

ত্বকের পরে লিভার মানবদেহের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ যার ওজন প্রায় ৩ পাউন্ডের মত। হজমক্রিয়া পরিচালনা, বিপাকক্রিয়া, অনাক্রম্যতা এবং দেহে বিভিন্ন পুষ্টির সঞ্চয় ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে এই লিভার। বিশেষ এই অঙ্গটি দেহের কোষে প্রয়োজনীয় শক্তি এবং পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে যেগুলো মানবদেহের কোষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এটি রক্তনালী থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয় এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে বলে জানান মিসিসাউগা থেকে হোলিস্টিক পুষ্টিবিজ্ঞানী হারমিট সিউড়ি। লিভারের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে সচল রাখতে এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে যে খাবারগুলো খাওয়া প্রয়োজন। 

১. রসুন :

রসুন লিভারকে এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। এছাড়া রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম নামক দুটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা লিভার পরিপাকে সহায়তা করে

২. গ্রিন টি :

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটচিন নামক এক ধরনের উদ্ভিজ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভারের সামগ্রিক কাজ পরিচালনাকে সহায়তা করে থাকে। তাই এই গ্রিন টি খাওয়া লিভারের জন্য বেশ উপকারি।

৩. জাম্বুরা :

জাম্বুরা ফলটি সরাসরি বা জুস করে খেলে তা ক্যান্সার উৎপাদক উপাদান এবং টক্সিন নির্মূলে লিভারকে সহায়তা করে থাকে। এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

৪. শালগম :

শালগমে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা লিভারের সার্বিক কাজে সহায়তা করে থাকে।

৫.সবুজ শাক :

সবুজ শাকে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের দৈনন্দিন অন্যান্য খাবারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ এবং কীটনাশকের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে থাকে যা লিভারের জন্য বেশ উপকারি।

৬ . লেবু :

এই বিষয়ে আমরা সবাই নিশ্চয়ই জানি যে সাইট্রাস জাতীয় ফল লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা আমাদের দেহের জন্য বেশ উপকারি। কিন্তু এছাড়াও লেবু দেহের বিভিন্ন টক্সিন নির্মূল এবং হজমে সহায়তা করে থাকে।

৭ . আমলকি :

আমলকির অনেক গুণাগুণ রয়েছে। আমলকি লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং হজমে সহায়তা করে

Saturday, 24 January 2015

লিভারের নানা রোগ-ব্যাধি

গ্রাম বাংলার কৃষক পরিবারের একজন গৃহিনী শেফালী আক্তার। কয়েকদিন যাবত্ তার শরীরটা খারাপ যাচ্ছে। মুখে রুচি নেই, বমি বমি ভাব, প্রস্রাব হলুদ হচ্ছে এবং চোখও হালকা হলুদ হয়ে এসেছে। শেফালী আক্তারের স্বামী হেলাল মিয়া গ্রামের লোকজনের সাথে আলাপ করে বুঝতে পারলেন যে শেফালী আক্তারের জন্ভিস হয়েছে। তাদেরই পরামর্শে তাকে নিয়ে গেলেন কবিরাজের কাছে। কবিরাজ হলুদ পড়া মেখে, পানি পড়া দিয়ে ও রঙ্গিন শরবত খাইয়ে শেফালী আক্তারের জন্ডিস দূর করার চিকিত্সা শুরু করলেন। শেফালী আক্তার সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশীি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অবশেষে হেলাল মিয়া শেফালী আক্তারকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার মানুষগুলো সরল বিশ্বাস ও অসচেতনার কারণে এখনও জন্ডিস হলে কবিরাজ-ফকিরের কাছেই প্রথমে দ্বারস্থ হন। ফলে তাদের জন্ডিস উপসম হওয়াতো দূরের কথা, জন্ডিস কি জন্য হলো তা অনির্নীত থেকে যায়। শুধ যে গ্রামে এরকম হয়তা নয়, শহরের অলিতে গলিতেও এরকম কিছু ভন্ড চিকিত্সক পাওয়া যায় যারা ওষুধের নামে বিভিন্ন রং মিশ্রিত শরবত খাইয়ে, গলায় লতার মালা পড়িয়ে, মাথায় সিঁদুড় ও পাতার বরণ দিয়ে এবং নাকে নশ্যি টানিয়ে জন্ডিস কমানোর অপচেষ্টা চালান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভাল হয়ে যায় বলে মনে হয়। প্রকৃত পক্ষে এসব ক্ষেত্রে হেপটাইটিস এ ও ই ভাইরাস দিয়ে স্বল্প মাত্রায় লিভারের প্রদাহ হয়ে জন্ডিস হয়, যা বিশ্রামে থাকলে কিছুদিন পরে এমনিতেই কমে
যায়। কিন্তু মাঝখান থেকে অসেচতনার কারণে উল্টোপাল্টা জিনিস সেবনে লিভারের চাপ আরও বাড়ে। তদুপরি, জন্ডিস তথা চোখ হলুদ ও প্রস্রাব গাঢ় হওয়ার সমস্যাটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
রক্তে লোহিত কনিকার ভিতরে থাকে হিমোগ্লোবিন, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন পরিবহন করে শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। লিভার মেয়াদোত্তীর্ণ হিমোগ্লোবিনকে ভেঙ্গে বিলিরুবিন অনু তৈরী করে। উক্ত বিলিরুবিন অনু পিত্তের মধ্য দিয়ে খাদ্যনালীতে বের হয়ে যায়। কোন কারণে রক্তে বিলিরুবিন বেশী জমা হলে চোখ হলুদ হয়ে যায়, প্রস্রাব গাঢ় হয় এবং বেশী মাত্রায় হলে শরীরও হলুদ হয়ে পড়ে। তিন প্রক্রিয়ায় রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এক: অধিক পরিমাণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যাওয়া, দুই: লিভারের প্রদাহের কারণে লিভার কর্তৃক বিলিরুবিনকে পিত্তনালীতে বের করতে না পারা এবং তিন: পিত্তনালী আটকে যাওয়া। কিছু কিছু মানুষের জেনেটিক কারণে লোহিত রক্ত কণিকা বেশী ভঙ্গুর হয়। তাদের ক্ষেত্রে হঠাত্ রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গিয়ে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। আবার যাদের পিত্তনালীতে পাথর হয় তাদের পিত্তের সাথে বিলিরুবিন না বেরোতে পেরে রক্তে বেড়ে যায়। সুতরাং যারা জন্ডিস হলে কবিরাজের দ্বারস্থ্য হয়, কিংবা গ্রাম্য ভূয়া চিকিত্সকের স্বরণাপন্ন হয় াতদের ক্ষেত্রে জন্ডিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ নির্ণীত না হওয়ায় পরবর্তীতে তারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। লিভারে প্রদাহ হয় হেপাটাইটিস ভাইরাস দিয়ে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস। এর মধ্যে এ ও ই স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ করে এবং বি ও সি দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ করে। বি ও সি ভাইরাস দিয়ে লিভার আক্রান্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জন্ডিস দেখা দেয় না। তবে এরা নিরবে লিভারের ক্ষতি করে যেতে থাকে। আমাদের দেশে অনেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য মেডিক্যাল চেক আপ করার সময় বা রক্ত দিতে গিয়ে ব্লাড স্ক্রিনিং করার সময় ঘটনাক্রমে রক্তে বি বা সি ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন। কিন্তু বি ও সি ভাইরাসের রোগের ধরণ সম্পর্কে না জানার কারণে এবং এদের চিকিত্সা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিত্সা নেন না। ফলে এদের মধ্যে অনেকে পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস নিয়ে ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হন। যেমনটা ঘটেছে আব্দুল মজীদের ক্ষেত্রে।
আব্দুল মজীদ ছিলেন একজন মুদী দোকানদার। তখন তার বয় ২৫ বছর। ভালো আয় না হওয়ায় ব্যবসা ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন। শহরে এসে মেডিকেল চেক আপ করান। চেক আপে তার এইচবিএসএজি পজিটিভ ধরা পরে। বিদেশে যেতে পারবেন না দেখে গ্রামে এসে পুনারায় দোকানদারীতে মনযোগ দেন। গ্রামের প্রতিবেশীদের কথায় একজন গ্রাম্য ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন। গ্রাম্য ডাক্তার তাকে বলেন এটা কোন সমস্যা নয় এবং একটা ভিটামিন লিখে দেন। এই ভাবে চলতে থাকে বেশ কয়েক বছর। এরপর তার ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, পায়খানার অভ্যাসের অনিয়ম শুরু হয় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। এবার তিনি একজন রেজিস্টার্ড চিকিত্সককে দেখালে চিকিত্সক তাকে একজন লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে দেন। রিভার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন আব্দুল মজীদের রক্তে ‘বি’ ভাইরাসের ডিএনএ-এর পরিমাণ অনেক বেশি এবং লিভারে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ করতে করতে সিরোসিস করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক তাকে বলেন যে চিকিত্সা আরো আগে শুরু করতে পারলে সিরোসিসকে হয়ত প্রতিহত করা যেতে পারতো।
দি লিভার সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে লিভার সিরোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। এই ভাইরাসগুলো লিভারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ করে। এ অবস্থায় যদি বি এবং সি ভাইরাসের চিকিত্সা করা যায়, তাহলে সিরোসিস প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কিন্তু উপরোক্ত ঘটনাটির মত এখনও বাংলাদেশে অনেক মানুষ অসচেতনতার ফলে এবং চিকিত্সক নামধারী ভন্ড চিকিত্সকদের পরামর্শের উপর ভরসা করার কারণে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের চিকিত্সার সুযোগ সম্পর্কে অবহিত হতে পারছেন না। ফলে তারা যথা সময়ে চিকিত্সা গ্রহণ করছেন না এবং তারা লিভার সিরোসিসের মত কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস কর্তৃক লিভারের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহকালীন ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, অস্থিরতা, অস্বস্থি ইত্যাদি অনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যাগুলোকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা পুষ্টির অভাব বিবেচনা করে বি ও সি ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করা হয় না। এছাড়াও দারিদ্রতার কারণে অনেকে ছোটখোটো পরীক্ষানিরীক্ষাও করতে রাজী হন না। এধরণের বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশের মানুষদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তাদেরকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না এবং চিকিত্সা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস দীর্ঘ মেয়াদী রোগ করছে কিনা এবং করলে তা কি পর্যায়ে আছে তা নির্ধারণ করতে রক্তে বেশ কিছু মার্কার ও লিভার এনজাইমের উপস্থিতি ও পরিমাণ দেখা হয়। তন্মধ্যে আছে, HBs Ag, HBe Ag, ALT, AST ইত্যাদি। এছাড়া পিসিআর পদ্ধতিতে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ডিএনএ-এর সংখ্যাও নিরুপণ করা হয়। রক্তে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কার্যক্রম বেশী পাওয়া গেলে চিকিত্সা করতে হয়। এর জন্য বাজারে দু’ধরণের ওষুধ পাওয়া যায়। ইন্টারফেরন, যা ত্বকের নিচে ইনজেক্ট করতে হয় এবং এন্টিভাইরাল ওষুধ, যা মুখে খেতে হয়। ইন্টারফেরনের দাম বেশী হওয়ায় সবার পক্ষে তা নেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু ইন্টারফেরন ব্যবহারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ছয়মাসের মধ্যে একটি ভালো ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে এন্টিভাইরাল ওষুধ প্রতিদিন একটা করে দীর্ঘ দিন সেবন করতে হয়। ইন্টারফেরন বা এন্টিভাইরাল ওষুধ যেটাই ব্যবহার করা হোক না কেন, যদি কেউ নিয়মিত ব্যবহার করে তার শরীরে ভাইরাসের কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা সম্ভব হয়। ফলে এ প্রক্রিয়ায় লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালানো যায়। এমনকি লিভার সিরোসিস হয়ে গেলেও প্রাথমিক অবস্থায় তার চিকিত্সা করা যায়, যা সমাজে প্রচলিত ধারণার বিপরীত। উল্লেখ্য, সমাজে প্রচলিত ধারণা হলো লিভার সিরোসিস হয়ে গেলে তার কোন চিকিত্সা নেই। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ইন্টারফেরন নেয়ার সামর্থ সবার না থাকলেও এন্টিভাইরাল ওষুধ অনেকের পক্ষেই সেবন করা সম্ভব। সুতরাং উক্ত রোগ ও চিকিত্সা সম্পর্কে সচেতনা বাড়লে অনেক রোগীকেই যথা সময়ে চিকিত্সা দেয়া সম্ভব হবে।
লিভার সিরোসিস বি ও সি ভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে হতে পারে। পাশ্চাত্যে লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ হলো অ্যালকোহল সেবন এবং ননঅ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস । কিন্তু বাংলাদেশে এখনও এদুটো প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য হওয়ার মত অবস্থায় আসেনি। অ্যালকোহলিক সিরোসিস না হওয়ার মূল কারণ ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা এবং নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা। তবে, নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বাংলাদেশে যেই হারে বাড়ছে তাতে শীঘ্রই এটি সিরোসিসের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ আমাদের দেশে লিভার রোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দি লিভার সেন্টারের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর লিভারে পরিমাণের চেয়ে বেশী ফ্যাট জমা হয়েছে। বর্তমান যুগের অর্থনৈতিক উন্নতি, খাধ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, জীবনকে সহজ করে দেয়া মেশিনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। যার ফলে দিনকে দিন মানুষ বেশী বেশী মুটিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। অথচ লিভারের অতিরিক্ত ফ্যাটের দীর্ঘকালীন উপস্থিতি যে লিভারে প্রদাহ করে সিরোসিস করতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষেরই কোন ধারণা নেই।
ময়মনসিংহের আজিজুর রহমান সাহেবেরও এ বিষয়ে কোন ধারণা ছিলো না। আজিজুর রহমান সাহেব প্রথম যখন লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে আসেন, তখন তার ইতোমধ্যে লিভারে স্টিয়াটোসিস হয়ে গিয়েছে। স্টিয়াটোসিস হলো দীর্ঘ মেয়াদী অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার ফলে সৃষ্ট প্রদাহের কারণে লিভারের গাঠনিক পরিবর্তন। দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহের ফলে লিভারের কোষগুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন ধরণের তন্ত্র জমা হয়, যাকে বলে ফাইব্রোসিস। ডাক্তার ফাইব্রোস্ক্যান করে দেখতে পেলেন যে, আজিজুর রহমান সাহেবের লিভারে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় তন্ত দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে এবং তা সিরোসিসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তার রোগের লক্ষণ ও লিভারের অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষাগলো তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজিজুর রহমান বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে উপলব্ধি করতে পারলেন যে শরীরের চর্বি কমিয়ে রাখার গুরুত্ব কতটুকু।
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো-পেটে অতিরিক্ত মেদ তথা অবেসিটি, টাইপ২ ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিনড্রোম, রক্তে অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল এবং হাইপো-থাইরয়ডিজম। নিয়মিত শরীর চর্চা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, প্রয়োজন মাফিক চর্বি কমার ওষুধ সেবন এবং চর্বি জমা হওয়ার কারণ নির্ণয়পূর্বক চিকিত্সা গ্রহণ করলে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। যদিও ফ্যাটি লিভারের রোগীদের অল্প সংখ্যকই সিরোসিস পর্যায়ে যায় তথাপি যার সিরোসিস হবে সেই হতভাগা ব্যক্তি যে আপনি বা আমিই হবো না তার নিশ্চয়তা কি? এজন্য কোন ব্যক্তির যদি ঘটনাক্রমে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ধরা পড়ে তার উচিত্ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। সময়ের সাথে সাথে মানুষের যেমন ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বাড়ছে তেমনি এর ক্ষতি, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করা গেলে উক্ত রোগ থেকে মুক্ত হওয়া বা উক্ত রোগকে প্রতিরোধ করাও সম্ভব।
ডায়রিয়া বাংলাদেশের মানুষের একটি সাধারণ রোগ। এর অন্যতম প্রধান কারণ মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ ডায়রিয়া সেড়ে যাওয়ার কিছুদিন পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, পেটের ডান দিকে বুকের নিচে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। ডাক্তাররা এদেরকে লিভার অ্যাবসেসের রোগী হিসাবে চিহ্নিত করেন। পেটের আলট্রাসনোগ্রাফিতে এদের লিভারে অ্যাবসেস নিশ্চিত হয়। লিভার অ্যঅবসেস উপযুক্ত চিকিত্সা পেলে সম্পূর্ণ ভালো হয়। লিভার সেন্টারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে এখানে চিকিত্সা নিতে আসা ০.৭ শতাংশ রোগীর লিভারে অ্যাবসেস পাওয়া গেছে।
উপরের পেটে ডান দিকে ও বুকের নিচে ব্যথার আরও অনেক কারণে হতে পারে। তন্মধ্যে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো- পিত্তথলীর প্রদাহ, পিত্তথলীতে বা পিত্তনালীতে পাথর, সরল লিভার সিস্ট ও হাইডাটিড সিস্ট। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু ফকির কবিরাজ আছে যারা রোগ িনর্ণয়ের নামে এই সকল রোগীর শরীরের বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি সৃষ্টি করেন। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের একটি লোকের সাথে।
মকবুল আহমেদ পিরোজপুরের একজন কৃষক। বয়স ৫০। তিনি হঠাত্ উপরোক্ত ধরণের পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হলে এলাকার লোকের কাছে শুনতে পান যে একজন ফকির আছে যে পেটে ধরেই বলে দিতে পারে পেটে কি সমস্যা আছে। উক্ত ফকিরের স্বরণাপন্ন হলে সে মকবুল আহমেদের পেটে ধরে বলে যে, তার পেটে পাথর হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে একজন উত্সাহী চিকিত্সক তা যাচাই করতে একটি বুদ্ধি করেন। তিনি একজন রোগী যার সত্যই পিত্তথলীতে পাথর হয়েছে তাকে উক্ত ফকিরের কাছে প্রেরণ করেন। উক্ত ফকির এবার রোগ ধরতে ব্যর্থ হয় এবং বলে যে তার পেটে কোন সমস্যা নেই। পরে এলাকার লোক তার ভন্ডামি ধরতে পেরে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
এভাবেই গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছে একদল ধান্দাবাজ লোক। যারা ফকির কবিরাজ সেজে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করে, অত:পর তাদের চিকিত্সা করার নামে উল্টো সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। লক্ষ্যনীয় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষদের মধ্যে যে লিভার রোগ সম্পর্কে  এখনও যতেষ্ট সচেতনতার ঘাটতি আছে তা এখান থেকে আবারও উপলব্ধি করা যায়। এই ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসতে হলে আমাদের চিকিত্সক সমাজকে সর্বপ্রথম এই সম্পর্কে অবহিত এবং প্রশিক্ষিত করতে হবে। বাংলাদেশে লিভার রোগকে পৃথকভাবে বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে হেপাটোলজি বিভাগ খোলা হয় ১৯৮৩ সালের মে মাসে। এরপর ধীরে ধীরে এই বিভাগের অধীনে উল্লেখযোগ্য সংখ্য চিকিত্সক লিভার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে বের হয়েছে। হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশ কর্তৃক গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ডাক্তারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লিভার রোগের গবেষণা ও আধুনিক চিকিত্সার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করে আসছে। আন্তর্জাতিক কনফারেন্সগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা চিকিত্সকগণ লিভার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন পোস্টগ্রাজুয়েশন করা বরেণ্য চিকিত্সকগণ। এছাড়া হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশ জেনারেল প্রাকটিশনার নিয়েও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে। এ হিসেবে বাংলাদেশের চিকিত্সকদের লিভার রোগকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়ে উদ্ধুদ্ধ করতে এটি বেশ বড় পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি টেলিভিশন মিডিয়ার বিভিন্ন প্রোগ্রাম, সংবাদপত্রে লিখিত সচেতনতামূলক প্রবন্ধ ও ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে’-তে প্রেস কনফারেন্স করার মাধ্যমে হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে লিভার রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আমরা আশা করি, বাংলাদেশের সকল চিকিত্সকগণ ও সচেতন নাগরিকগণও ভূয়া চিকিত্সক ও ভন্ড কবিরাজ-ফকিরের কাছে থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং যথাস্থানে গিয়ে লিভারের রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সাগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে সচেষ্ট হবেন। এভাবে একদিকে যেমন বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে লিভার রোগের একটি বড় অনির্ণীত অংশ যেমন নির্ণীত হবে তেমনি লিভার রোগ প্রতিরোধ করে রোগের ব্যপ্তি কমাতেও তত্পর হওয়া যাবে।
 
 
লেখক:পরিচালক
দি লিভার সেন্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মির্জা গোলাম হাফিজ রোড
বাড়ী নং-৬৪, রোড নং-৮/এ
ধানমন্ডি, ঢাকা
 

Friday, 23 January 2015

হাড়ের ক্ষয় চিকিত্সা ও প্রতিকার

হাড়ের ক্ষয়রোগ একটি নীরব ঘাতক, যা মানুষকে আস্তে আস্তে ক্ষতিগ্রস্ত ও পঙ্গু করে এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তীব্র ব্যথা, বেঁকে যাওয়া এবং হাড় না ভাঙা পর্যন্ত বোঝা যায় না—হাড়ে মরণব্যাধি ক্ষয়রোগ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট চিহ্ন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে এ রোগ শরীরে থাকে। মানবশরীরে ২০৬টি হাড় থাকে এবং প্রতিটি হাড় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণ, ভিটামিন, আমিষ এবং কোলাজেন দিয়ে তৈরি হয়। হিসাবে দেখা যায়, ৪০ ভাগ ব্যক্তির হাড়ের পরিমাণ বা ঘনত্ব বংশানুক্রমিকভাবে নির্ধারিত হয় এবং ২০ ভাগ ব্যক্তির হাড়ের পরিমাণ বা ঘনত্ব নির্ধারিত হয় জীবনব্যবস্থার মাধ্যমে। ৩০ বছর বয়সে হাড়ের ঘনত্ব সর্বোচ্চ পরিমাণ থাকে। প্রাকৃতিক নিয়মে ৩০ বছরের পর থেকে মানবশরীরে হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ কমতে থাকে। হাড়ের এই হ্রাসের পরিমাণ নির্ভর করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, বংশানুক্রম ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর। হাড়ের এই দুর্বল অবস্থা ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়। হাড়ের ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য উপাদান ক্ষয়ের ফলে হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয় এবং অতি সহজেই ভেঙে যায়। যে কোনো হাড় ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে কবজির হাড়, মেরুদ ের হাড় এবং কটির (হিপ) হাড় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা চারগুণ বেশি এবং প্রতি দু’জন মহিলার মধ্যে একজন হাড়ের ক্ষয়রোগে ভোগে, বিশেষ করে যারা শারীরিক গঠনে পাতলা ও খাটো এবং বয়স্ক। প্রায় ২০ ভাগ মহিলা (ঋতুস্রাব বন্ধের পর) হাড় ক্ষয় হয়ে মেরুদ ের কশেরুকার ভঙ্গুরতায় ভোগে এবং পরবর্তী বছরে সাধারণত আরেকটি নতুন হাড় ভাঙে। এশিয়া মহাদেশের মহিলারা (বিশ্বের ৫০ শতাংশ) ও যাদের পরিবারের অন্যরা এ রোগে ভুগছে এবং তাড়াতাড়ি বা অপারেশনের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়েছে, এমন মহিলারা হাড়ের ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এন্ডোক্রাইন (গ্রন্থি) সমস্যা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, যক্ষ্মা, ড্রাগ (স্টেরয়েড, অ্যান্টিকনভ্যালসেন্ট, হেপারিন), খাদ্যনালির অপারেশন ও খাদ্যনালির রোগ (সিলিয়াক ডিজিজ) এবং লিভারের (যকৃত্) সমস্যা হাড়ের ক্ষয় করে। এ ছাড়াও শারীরিক পরিশ্রম কম করলে, ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার কম খেলে এবং ধূমপান ও মদ্যপান করলে হাড়ের ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

উপসর্গ
প্রথমে পিঠ, কোমর, ঘাড় ও পেশিতে অল্প ব্যথা হয় এবং পরে হঠাত্ করে তীক্ষষ্ট ব্যথা হয়। এই ধরনের ব্যথা এক সপ্তাহ থেকে তিন মাস পর্যন্ত বিদ্যমান হতে পারে। মেরুদ ের কশেরুকার উচ্চতা কমে যায়, রোগী সামনে ঝুঁকে থাকে এবং পেছনে কুঁজ হয়। একে কাইফোটিক আকৃতি বলে। কশেরুকা ভাঙার ব্যথা মেরুদ থেকে শুরু হয়ে পিঠের দুই পাশ দিয়ে সামনের দিকে আসে এবং বুক ও পেটে অনুভূত হয় এবং পা পর্যন্ত যায়। সাধারণত পড়ে গিয়ে হালকা আঘাতেই ক্ষয়জনিত কারণে কটি ও কবজির হাড় ভেঙে যায়। কটির (হিপ জয়েন্ট) হাড় ভাঙা রোগীর ২০ ভাগ পরবর্তী বছর মারা যায়। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ রোগী সুস্থ হয়ে প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে পারে।

প্রতিকার
উপযুক্ত ব্যায়াম—যেমন, নিয়মিত হাঁটা, জগিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করা এবং ওজন বহন করা ইত্যাদি করলে হাড়ক্ষয় কম হবে। কিশোর বয়সে কায়িক পরিশ্রম করলে হাড়ের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং হাড় মোটা হয়। ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড়ক্ষয় কম হয়। সুষম খাদ্য এবং কিশোর বয়সে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ৫০ বছর পর্যন্ত ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম দৈনিক সেবন করা উচিত। ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা এবং পড়ে যাওয়া বা কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। হাড়ের পরিমাণ হ্রাস এবং দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা প্রতিরোধে চিকিত্সকের পরামর্শসহ প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হবে।

চিকিত্সা
চিকিত্সা নির্ভর করে হাড়ের পরিমাণ হ্রাস, হাড়ের দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা ও হাড় ভাঙার ওপর। নিয়মিত নির্দেশিত ব্যায়াম করতে হবে। দৈনিক পরিমিত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ডি, মিনারেলস এবং বিসফোসফোনেট জাতীয় ওষুধ (যেমন—এলেনড্রোনেট, ইটিড্রোনেট ও রাইসড্রোনেট) চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে হোরমোন, রেলো?িফেন ও ক্যালসিটোনিন ইনজেকশন পুশ করতে হবে। ব্যথা নিরাময়ের জন্য এনালজেসিক ওষুধ ও ফিজিক্যাল থেরাপি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হাড় ভাঙার জন্য কনজারভেটিভ বা সার্জিক্যাল চিকিত্সার প্রয়োজন হয়।

লেখক : কনসালট্যান্ট, হাড়, জোড়া, ট্রমা এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি
কেয়ার হাসপাতাল, কলেজগেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা; ডিজি ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস
মিরপুর-১০, ঢাকা

Thursday, 22 January 2015

ডায়াবেটিস রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতীকার

বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। এর সঠিক প্রতীকার না করার ফলে,এর প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে। মানব দেহের ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা অপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এইভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে।
ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষকদল জানিয়েছে-
অনেকেই ধারনা করেন চিনি বেশি খেলে ডায়াবেটিস জন্য ক্ষতিকর।তবে এই ধারনাতি সঠিক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস হয় জেনেটিক ও লাইল স্টাইলগত কারণে। তবে তারা এটি স্বীকার করেছেন যে, অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। আর শরীরের ওজন বাড়ার সাথে ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে।
চিকন মানুষের ডায়াবেটিস হয় না, অনেকেই এই ধারনাটি পোষণ করে থাকেন। এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভুল। ডায়াবেটিস চিকন, মোটা যেকারোরই হতে পারে। মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের ডায়াবেটিস – ২ এর অধিক ঝুকি রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক, নৃতাত্বিক সম্পর্ক ও বয়সের কারণেও ডায়াবেটিস হয়।
কেউ কেউ বলেন ডায়াবেটিস তেমন কোনো মারাত্মক রোগ নয়। অনেক ক্ষেত্রে শারিরীক পরিশ্রমের অভাব, ওজন বেশি হয়ে যাওয়া, বয়স, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনেও ডায়বেটিস হতে পারে যেমন স্টেরয়েট হরমোন, থাইয়াজাইট ডাইরোটিক্স তাই বংশগত কারন না থাকলেও ওজন বেশি হওয়ার কারনে ডায়বেটিস হতে পারে কারন ওজন বেশি হলে ইনসুলের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
> ক্লান্তি বা দূর্বলতা বোধ করা
> খোশ-পাঁচড়া, ফোঁড়া জাতীয় চর্মরোগ দেখা দেওয়া
> খুব বেশী পিপাসা লাগা
> ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
> বেশী ক্ষুধা পাওয়া
> ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
যারা দীর্ঘ দিন যাবত এই রোগে ভুগছেন, তাদের হয় তো এই সব লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। তবে পরীক্ষাতেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীর দুর্বল হলে করণীয়
>ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
ভিটামিনের অভাব আছে কিনা, রক্ত শূন্যতা আছে কিনা, ইলোকট্রোলইট এর অসমাঞ্জস্যতা আছে কিনা তা দেখতে হবে এবং সে অনুসারে চিকিৎসা করলে দূর্বলতা কেটে যাবে।
ভিটামিন বা স্যালাইন খেলে ডায়াবেটিস বাড়বেও না কমবেও না। তাই ভিটামিন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রচুর শাক সব্জি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে এবং প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। যেমন পাতা জাতিয় শাকসব্জি এবং টক ফল। এছাড়া পানি জাতিয় সব্জিতে সুগার থাকে না এবং এতে প্রচুর ভিটামিন থাকে। যেমন লাউ, কুমরা, পটল, করলা, চিচিঙ্গা এগুলো খেলে ভিটামিনের অভাব পুরোন হয় এবং ডায়াবেটিস এর জন্যও ভালো।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন সহজ ভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করার জন্য এক প্রতিবেদনে বলেছেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম ( দ্রুত হাঁটা – ১মিনিটে ১২০ কদম, সাতার কাটা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো)।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঁতার এবং সাইকেল ছাড়া নিয়মিত ৩০-৬০ মিনিট হাঁটলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৫-৪০ শতাংশ কমে যায়।
নিয়মিত ব্লাড সুগার, বছরে অন্তত একবার এইচবিএ ওয়ানসি, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, প্রসাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা করান, ব্লাড প্রেসারও দেখতে হবে নিয়মিত।

Wednesday, 21 January 2015

জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি লক্ষণ

   
  জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি লক্ষণ 
  হার্ট অ্যাটাক এমন এক রোগ যা সময় মত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুর সম্ভাবনা ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে ৷ এই রোগের কারণেই ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয় ৷  হৃদযন্ত্রে রক্ত সংবহন ব্যহত হলেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ৷ বা অনেক সময় রক্তজমাট বেঁধে ক্লডের সৃষ্টি হয়েই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ৷ হার্ট অ্যাটাকে প্রাক্কালে বেশ কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় ৷ তবে অনেকেই বুঝতে পারনে না ফলে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায় ৷
 হার্ট অ্যাটাকে পাঁচটি লক্ষণ রইল আপনাদের জন্য ৷ 
যদি আপনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয় তবে এটিকে একেবারেই এড়িয়ে যাবেন না ৷ চিকিৎসকের পরামর্শ একান্ত জরুরী ৷
 মানসিক অবসাদ অবশ্যই হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারন লক্ষণ ৷
  কাঁধ, গলা ও হাতে যদি ব্যথা ছড়াতে দেখেন তবে জানবেন এটি হার্ট অ্যাটাকেরই একটি পূর্বাভাস ৷ 
অতিরিক্ত ঘাম, অশ্বস্তি, ও বুক ধরফর করা ইত্যাদিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ৷ 
বদহজমের সঙ্গে হাত বা মুখোর জোয়াল ব্যথা বা শ্বাসকষ্টও এই রোগের লক্ষণ ৷  তাই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি অনুভব করলে অবশ্যই চিকিৎসকেরা পরামর্শ নিন ৷ ভালো থাকুন ৷

জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি লক্ষণ

২০১৫ জানুয়ারি ২০ ১৪:০০:২৯
জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি লক্ষণ


হার্ট অ্যাটাক এমন এক রোগ যা সময় মত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুর সম্ভাবনা ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে ৷ এই রোগের কারণেই ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয় ৷
হৃদযন্ত্রে রক্ত সংবহন ব্যহত হলেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ৷ বা অনেক সময় রক্তজমাট বেঁধে ক্লডের সৃষ্টি হয়েই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ৷ হার্ট অ্যাটাকে প্রাক্কালে বেশ কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় ৷ তবে অনেকেই বুঝতে পারনে না ফলে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায় ৷ হার্ট অ্যাটাকে পাঁচটি লক্ষণ রইল আপনাদের জন্য ৷

যদি আপনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয় তবে এটিকে একেবারেই এড়িয়ে যাবেন না ৷ চিকিৎসকের পরামর্শ একান্ত জরুরী ৷

মানসিক অবসাদ অবশ্যই হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারন লক্ষণ ৷

কাঁধ, গলা ও হাতে যদি ব্যথা ছড়াতে দেখেন তবে জানবেন এটি হার্ট অ্যাটাকেরই একটি পূর্বাভাস ৷

অতিরিক্ত ঘাম, অশ্বস্তি, ও বুক ধরফর করা ইত্যাদিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ৷

বদহজমের সঙ্গে হাত বা মুখোর জোয়াল ব্যথা বা শ্বাসকষ্টও এই রোগের লক্ষণ ৷

তাই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি অনুভব করলে অবশ্যই চিকিৎসকেরা পরামর্শ নিন ৷ ভালো থাকুন ৷
- See more at: http://www.binodon69.com/bangla/article/7473/#sthash.xFDhkYDO.dpuf